Showing posts with label সতর্কতা. Show all posts
Showing posts with label সতর্কতা. Show all posts

Sunday, September 13, 2009

বিলুপ্তির পথে বাংলার শকুন


৫ সেপ্টেম্বর ছিল 'আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস'। এবারই প্রথম এ দেশে দিবসটি পালন করেছে বাংলাদেশ শকুন গবেষণা ও সংরক্ষণ প্রোগ্রাম, ওরিয়েন্টাল বার্ড ক্লাব, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এবং ডবিল্গউআরসিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। সম্প্রতি এ দেশে শকুনের কী অবস্থা, তার একটি জরিপ পরিচালনা করে বাংলাদেশ শকুন গবেষণা ও সংরক্ষণ প্রোগ্রাম। তাদের গবেষণায় শকুন হারিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও বাংলাদেশ নেচার স্ট্যাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ইউনিয়নও দীর্ঘদিন ধরে শকুনের ওপর জরিপ করে আসছে।

লিখেছেন সীমান্ত দীপু

এ দেশে শকুনের যে ক'টি প্রজাতি আছে, তার মধ্যে বাংলা শকুন ছাড়া প্রায় সব ক'টি জাতই হারিয়ে গেছে। বাংলা শকুনও বিলুপ্তির পথে। এদের টিকে থাকার জন্য খাবার আর আবাসস্থল নেই বললেই চলে। সিলেটের গভীর বন আর সুন্দরবনে কালেভদ্রে শকুনের দেখা মেলে।

আসলে শকুনকে ছোট-বড় প্রায় সবাই নামে চেনেন। সত্তরের দশক পর্যন্ত এ দেশে শকুনের দল সহজেই চোখে পড়ত। নব্বইয়ের গোড়ায় দেখেছি, মরা গরু খেতে শকুনের দল কোথা থেকে যেন হঠাৎ হাজির হতো। ভাগাড়ে শকুন আর কাকের চেঁচামেচিতে গ্রামের লোকজন জমে যেত। লোকশ্রুতি এমন যে, গরু মারা গেলে কাক শকুনকে দূরদেশে খবর দিতে যেত। আর ফেরার পথে ছোট্ট কাক দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে না পেরে শকুনের পিঠে চড়ে বসত। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। আসলে শকুন আকাশের অনেক উঁচুতে উঠে ডানা মেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়তে থাকে। এদের দৃষ্টিশক্তি এতই প্রখর যে, মাটিতে অথবা পানিতে ভেসে থাকা যে কোনো মরা বস্তু সহজেই দেখতে পায়। তবে শকুনের ঘ্রাণশক্তি নেই। মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যে শকুন হারিয়ে গেলেও এ নিয়ে এ দেশে এতদিন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। অথচ শকুন মানুষের শত্রু নয়, বরং বন্ধুই।

জরিপে গত বছর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বাংলা শকুনের একটি বড় দল দেখা গিয়েছিল। পুরনো দুটি আমগাছে বাসাও বেঁধেছিল তিন জোড়া শকুন। মাত্র এক মাসের মাথায় আমগাছগুলো কেটে ফেলা হয়। ফলে বহুদিন পর বাংলাদেশে দেখা শকুন ডিম পাড়লেও বাচ্চা ফুটাতে পারেনি। পাখি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আর হয়তো শকুন এদেশে বাসা করার আস্তানা পাবে না। কিন্তু এই দুঃসংবাদ সংবাদ সত্ত্বেও কিছুটা আশাসঞ্চার হল সম্প্রতি। জুলাই-২০০৯-এ শ্রীমঙ্গলের গভীর বনে দেখা মিলল প্রায় ১৬টি শকুনের বড় একটি দলের। ধারণা করা হচ্ছে, এ দেশে এর চেয়ে বড় শকুনের দল আর নেই। শকুনের বাসা পাওয়া না গেলেও ওই এলাকায় শকুনের বাসা আছে বলে পাখি পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

বাংলাদেশে ৫ প্রজাতির শকুনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বাংলা শকুন। এর বৈজ্ঞানিক নাম জেপস বেঙ্গালেনসিস। এজন্য বাংলা শব্দটি চলে এসেছে। এখন গোটা পৃথিবীতেই শকুনের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সংখ্যায় ১০ হাজারের বেশি হবে না। বাংলাদেশে বাংলা শকুন এখন বিরল প্রজাতি। সব মিলিয়ে এ দেশেও এদের সংখ্যা ২০০-এর বেশি হবে না। তাও আবার বেশিরভাগই দেখা যায় সুন্দরবন এলাকায়। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ দেশও শকুনশূন্য হয়ে পড়বে। ঢাকার টঙ্গী এলাকায় একসময় শকুন দেখা যেত। এখনও দু'একটির দেখা মেলে চিড়িয়াখানার আশপাশে। এ দেশ থেকে শকুন হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রজননের জন্য আবাসস্থলের অভাব। এরা সাধারণত বট, শিমুল, দেবদারু ও তালসহ বড় বড় দেশি গাছে বাসা বাঁধে। কিন্তু এসব দেশি গাছের আজ বড়ই অভাব। একজোড়া স্ত্রী-পুরুষ বছরে মাত্র একবার একটিমাত্র ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটায়। কোনো কোনো সময় দুটি ডিমও দিতে পারে। ফলে এদের সংখ্যা বৃদ্ধির হারও খুবই কম। এছাড়া বাংলাদেশসহ পুরো এশিয়ার গবাদিপশুকে ডাইক্লোফেনাক নামক ওষুধ সেবন করানো হয়। ফলে গরু মারা যাওয়ার পরও ঐ ঔষধের কিছু কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। শকুন মরা গরু খেলে তার শরীরে ওই ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় শকুনের মৃত্যু হয়। এছাড়া বর্তমানে গরু কম মারা যায় কিংবা গেলেও পুঁতে ফেলা হয়। এতে দিন দিন তাদের খাবারও একেবারেই কমে এসেছে। ফলে হারিয়ে গেছে প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ বাংলা শকুন।

ভারত সরকার ক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধ নিষিদ্ধ করেছে। ভারতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ক্লোফেনাক ট্যাবলেট একটি শকুনকে খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই মারা যায়। এই ওষুধের বিষক্রিয়ায় এদের কিডনিতে পানি জমে যায়। ভারত সরকার ওষুধটি নিষিদ্ধ করলেও বাংলাদেশ সরকার কিন্তু নিষিদ্ধ করেনি। বরং এ দেশ থেকেই ভারতে পাচার হচ্ছে ওষুধটি।

পরিবেশের জন্য শকুন খুবই মূল্যবান একটি পাখি। হবিগঞ্জে এদের বাসা পাওয়াটা খুবই আশার কথা। ভারতে শকুনের ক্যাপটিভ ব্রিডিং শুরু হয়ে গেছে। কাজেই শকুনকে হারিয়ে ফেলার আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে। বাড়াতে হবে এদের প্রজনন ক্ষেত্র। অথবা ক্যাপটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বাড়িয়ে ছেড়ে দিতে হবে পরিবেশে।

Tuesday, February 3, 2009

আবাসস্থল হারাচ্ছে অনেকেই

কক্সবাজারে ৫২ প্রজাতির ১৬ হাজার জলচর পাখি শনাক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উপকুলে ৫২ প্রজাতির ১৫ হাজার ৯৩৩টি জলচর পাখি রয়েছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ‘মেরিন লাইফ অ্যালায়েন্স’ সোনাদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, শাহপরীর দ্বীপ ও নাফ নদের তীর এলাকায় জরিপ চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ২৭ থেকে ৩০ জানুয়ারি চার দিন কক্সবাজারের জলাভুমিতে চালানো সংস্থার শুমারি থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংস্থার পরিচালক জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ৫২ প্রজাতির জলচর পাখির মধ্যে ৩৭ প্রজাতির রয়েছে পরিযায়ী পাখি। পাখিশুমারিতে বৈশ্বিকভাবে দুটি বিপন্ন প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলো স্পুনবিল স্যান্ডপাইপার ও নর্ডম্যানস গ্রিনশ্যাংক। সোনাদিয়া দ্বীপের বেলেকেরদিয়া অঞ্চলে এ ধরনের আটটি স্পুনবিল গণনা করা হয়। পৃথিবীতে স্পুনবিলের মোট সংখ্যা ৪০০ জোড়ারও কম।

জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার ছাত্র ও বার্ড ক্লাবের সদস্য সামিউল মহসানিন, মো. ফয়সল এবং সোনাদিয়া ও শাহপরীর দ্বীপের দুটি স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবক দল এই পাখিশুমারিতে অংশ নেয়।
পাখি পর্যবেক্ষকেরা জানান, এখনো সোনাদিয়ার বেলেকেরদিয়া, মহেশখালীর তাজিয়াকাটারচর, পাইকদিয়া, আলোরদিয়ার কাদাভুমি এবং তৎসংলগ্ন বালুচর পাখির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে গণ্য করা যায়। এ ছাড়া শাহপরীর দ্বীপের বদরমোকাম জলচর পাখির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সেখানে ২০০৬ ও ২০০৭ সালে জরিপ চালিয়ে স্পুনবিলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সোনাদিয়া ও মহেশখালী অঞ্চলে এবার ১১ হাজার ৮৭৮টি পাখি শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে সোনাদিয়া, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপসহ জরিপকৃত এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও জলাভুমির যত্রতত্র ব্যবহারে পাখির আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মেরিন লাইফের পরিচালক জহিরুল ইসলাম জানান, জরিপ অঞ্চলটি পরিযায়ী পাখির আন্তর্জাতিক উড়োপথ বা ফ্লাইওয়ের অন্তর্ভুক্ত। হাজার হাজার মাইল দুর থেকে পরিযায়ী পাখিগুলো যদি এখানে এসে বসবাসের সুযোগ না পায়, তাহলে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

সূত্র: প্রথম আলো

Sunday, June 1, 2008

পাখির জন্য শোকগাথা

শরীফ খান

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের কোমরপুরের বিল। ওই বিলের এক প্রান্তে মাঝারি মাপের একটি চিংড়িঘের। ঘেরের মালিক তরুণ আব্দুল কুদ্দুস ঘেরের চিংড়িগুলোকে খাবার দিচ্ছেন। রোজই দেন এবং রোজই এক জোড়া সরালি হাঁসকে (Lesser whistling duck) ঘেরের জলে চরতে দেখেন। নিরীহ পাখি। মাছের ক্ষতি করেই না বলতে গেলে। কুদ্দুস ওদের তাই বলেন না কিছু।
২০০০ সালের জুন মাস। তারিখটি মনে নেই কুদ্দুসের, তবে আষাঢ়ের সেদিন ছিল ২ তারিখ। ঘেরে কাজ করার সময় কুদ্দুস একটি পাখি দেখেন। অন্যটি! যা ভেবেছিলেন তা-ই, একটু খুঁজতেই তিনি চওড়া উলুঘাসের আইলের ভেতর পেয়ে যান ডিম বুকে বসা মা-পাখিটাকে। কাছে গেলে উড়ে যায়। কুদ্দুস পেয়ে যান ১১টি ডিম। দেখতে দেশি মুরগির ডিমের মতো।
ডিমগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরলেন কুদ্দুস। ডিমে তা দেওয়া মুরগি (ফকিরহাটে বলে ‘উমনে মুরগি’) ছিল বাড়িতে। ১১টি ডিমে বসিয়ে দেওয়া হলো মুরগিটি। ২৮ দিন পর ছানা ফুটল। মুরগিমাতার খুশি তখন দেখে কে! ‘কুটকুট’ করে কত কথা যে সে বলে চলল তুলতুলে ছানাদের সঙ্গে! কুদ্দুসও মহা খুশি। খুশি তাঁর পুরো পরিবার। পাইকপাড়া গ্রামবাসীও খুশি। কিন্তু বেশি খুশিতে গদগদ মুরগিমাতা নিজেই গায়ের চাপে মেরে ফেলল দুটি ছানা। নয়টি টিকে রইল।
মুরগিমাতা তো এই ছানাদের খাবার তালিকা জানে না। আবার ছানারা নামে জলে, মা তো থাকে ডাঙায়। এ রকম কৌতুককর দৃশ্য ফকিরহাট অঞ্চলে আজও হরহামেশা দেখা যায়। পোষা পাতিহাঁসের ছানা চরছে জলে আর ওদের ‘তা-মা’ ডাঙায় থেকে ছানাদের পাহারা দিচ্ছে।
চিল-বাজ দেখলেই ছানাদের রক্ষার জন্য জলে গিয়ে পড়ছে উড়ে। ফকিরহাটের মানুষ সরালি হাঁস, বালি হাঁস (Cotton pygmy goose), ডাহুক, কোড়া, কালিম, মেটে হাঁস (Spot-billed duck), বুনো কোয়েল (Barred Button Quail) প্রভৃতি পাখির ডিম মুরগির তায়ে ফোটাতে অভ্যস্ত; জানে ছোট ছানাদের খাবারের তালিকাও। অতএব প্রথম চার-পাঁচ দিন কুদ্দুস মাটির চাড়ি ও অ্যালুমিনিয়ামের গামলার জলে ভাসিয়ে দিলেন ছোট ছোট খুদিপানা বা খুদিশ্যাওলা। মুরগিমাতা রাগে ডাকে আর চাড়ি-গামলার পাশে ঘোরে; কানায় উঠে ছানারা কেমন আছে, তা লক্ষ করে। সাত-আট দিন বয়সে কুদ্দুস চিংড়ির খাবার আপেল, শামুক ভেঙে ভেতরের মাংস ব্লেড দিয়ে কুচি কুচি করে কেটে গামলা-চাড়ির জলে ফেলে দেওয়া শুরু করেন। ছানারা খায় হুড়োহুড়ি-ডুবোডুবি করে। মায়ের পেছনে পেছনে হাঁটে। মায়ের পিঠে ও পক্ষপুটে ঢুকে বিশ্রাম নেয়।
শামুকের মাংস খেয়ে ছানারা বাড়তে থাকে দ্রুত। এ সময় কুদ্দুস বাড়ির সামনে দিয়ে প্রবাহিত জোয়ার-ভাটা খেলা একটি খালের কালভার্টের পাশে বেড়া ও নেট দিয়ে তৈরি করেন বড়সড় একটি খাঁচা বা ঘর। ঘরের ভেতরে মাচান করে মাচানের ওপর বসিয়ে দেন কাঠের কয়েকটি বাক্স।
১৫ দিন বয়স থেকে ছানাগুলোর খাওয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। খাঁচার ভেতরের জলেই ফেলা হয় শামুকের মাংস ও ধান। প্রতিদিন মাংসই লাগে ওদের দেড়-দুই কেজি।
উড়তে শেখার পর খাঁচাবন্দী হয়ে পড়ল ওরা। ২০০১ সালের ওই আষাঢ় মাসেই কাঠের বাক্সে ডিম দিল একটি হাঁস। সাতটি ডিম। পাঁচটি ছানা ফোটে। নষ্ট হয় দুটি। ছানারা বাক্স থেকে লাফিয়ে নামে জলে। কয়েক ঘণ্টার ভেতর পুরুষ হাঁসগুলো ছানাগুলোকে ঠুকরে-আছড়ে মেরে ফেলে। কুদ্দুস মর্মাহত হন ভীষণভাবে। এরই মধ্যে তিনি পুরুষ ও মেয়ে হাঁস শনাক্ত করতে শিখে গেছেন ভালোভাবে।
২০০২ সালের আষাঢ়ে একই বাক্সে ডিম দেয় দুটি মাদি হাঁস। বাক্স আরও ছিল। দুই বাক্সে ডিম দিলে ঝামেলা ছিল না কিছু। দুটিতে ডিম দেয় ১১টি। তা দেওয়ার সময় ঠেলাঠেলি-গুঁতোগুঁতি, মারামারি। অতএব ১০টি ডিমই নষ্ট হয়। একটি ছানা ফোটে।
২০০৩ সালের ডিমগুলো থেকে একটি ছানাও ফোটেনি।
২০০৪ সালের দিকে কুদ্দুসের বিশ্বাস জন্নায়, খাঁচার দরজা খুলে দিলেও পাখিগুলো পালাবে না। প্রভুকে চিনেছে ভালোভাবে। দেখলেই আনন্দধ্বনি দেয়। হাত থেকে খাবার খায়; এমনকি বহু রাতে দুর থেকেও প্রভুর কন্ঠস্বর শুনলে ডাকাডাকি করে যেন প্রশ্ন করে: কেমন আছ, প্রভু? শুভ রাত্রি। কুদ্দুসও বুঝতে পারতেন ওদের ভাষা।
হ্যাঁ, প্রভুর বিশ্বাস ভঙ্গ করেনি ওরা। সকালে খাঁচা থেকে বেরিয়ে উড়ে যেত দুরে−কাছের বিল ও চিংড়ির খামারগুলোতে। দুপুরে ফিরত। আবার বেরোত বিকেলে। ফিরত সন্ধ্যায়। বাক্সের ওপরে কাটাত রাত। রাতেও চরত খাঁচার ভেতরের জলে।
দিনে দিনে বাড়ল সাহস। ফকিরহাটের বিখ্যাত উত্তরের হাওর ও বাংলাদেশের কুয়েতখ্যাত ফলতিতা পাইকপাড়া। পাখিগুলো যেতে শুরু করল ওদিকেও।
শীতে উত্তরের হাওর তো বটেই, বাগেরহাট জেলার নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটে আজও আসে সাত-আট প্রজাতির দেশি-বিদেশি বুনো হাঁস। স্বজাতিরা ঝাঁক বেঁধে ডাকতে ডাকতে উড়ে যাওয়ার সময় কুদ্দুসের সরালিগুলো একটু যেন উদাস হয়ে যেত। তবে মিশত না ওদের সঙ্গে, স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখত পোষা হাঁসের সঙ্গেও। কুদ্দুস ডাক দিলে ডাকের সীমানায় থাকলে হাঁসগুলো উড়ে চলে আসত। কুদ্দুসের হাতের ভাষাও বুঝত ওরা, বুঝত ভালোবাসা।
২০০৪ সালের ডিমগুলো থেকে ছানা ফোটেনি। ওই সালেই এক রাতে খাঁচার নেট ছিঁড়ে ভেতরে ঢোকে একটি মেছো বাঘ। হাঁসগুলোর সে কী করুণ চিৎকার ও দাপাদাপি-ঝাপাঝাপি! বাড়ি থেকে দৌড়ে আসেন প্রভু। টর্চ জেলে দেখেন, একটি হাঁসকে মেরেছে, আরেকটিকে মুখে ধরে আছে মেছো বাঘটি।
২০০৫ সালেও ডিম ফুটল না−একই কারণে। তখন হাঁস আছে মাত্র চারটি। দুটি পুরুষ, দুটি মেয়ে। বাকিগুলো লোভী চিংড়িশ্রমিকেরা ধরে খেয়ে ফেলেছে। মানুষকে ভয় তো পেত না। প্রভুর বুকে আহাজারি। চোখে কান্না। নিজের সন্তানের মতোই যে হাঁসগুলো!
২০০৬ সালেও ডিম ফুটে ছানা হলো না। একটি মেয়েপাখিও হারিয়ে গেল লোভী মানুষের পেটে। রইল বাকি তিনটি। কুদ্দুস খাঁচাবন্দী রাখতে চান। হাঁস তিনটি প্রভুর কাছে করুণ মিনতি করে। কী আর করা, ছাড়াই রইল। আশপাশের মানুষজন সবাই জানত হাঁসগুলোর কথা।
২০০৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কুদ্দুসের বাড়িতে আবারও যাই আমি, তানভীর খান ও শিপলু খান। খাঁচায় নেই। ডাক দেওয়া হয়। একটি আসে, অনেকক্ষণ উড়ে-ঘুরে নামে একটি ছোট পুকুরে।
তানভীর খানকে ভালো ভালো পোজ দেয়। খুব কাছেও আসে।
২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ওই তিনটি পাখিও যায় এক ঘের-মালিকের পেটে। তার ঘেরে নামত। সে অভিযোগও করেছিল মাছ খাওয়ার। কিন্তু আটকে রাখতে পারেননি কুদ্দুস। আটকালেই হাঁসগুলো কাঁদত, মিনতি করত; কুদ্দুস তা বুঝত। রোজ গোধুলিবেলায় হাঁসগুলো অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে ঘুরে উড়ত পাইকপাড়ার মাথায়; তারপর ঢুকত খাঁচায়।
পাখিগুলো নেই। কুদ্দুস সে শোক ভুলতে পারছেন না আজও। হঠাৎ হঠাৎ তাঁর কানে ভেসে আসে যেন হাঁসগুলোর ডাক। চমকে চমকে ওঠেন। স্বপ্নেও দেখেন পাখিগুলোকে।
এই পাখিগুলোকে নিয়ে তিনি অনেক শোকের কবিতা লিখেছেন; বলা যায় হূদয়ের শোকগাথা। বাড়ি গেলে এবার আমি সংগ্রহ করব ওগুলো। পাখিকে ভালোবেসে পাখির শোকে কজন আর লিখতে পারে এমন শোকগাথা?
প্রথম আলো। ৩১ মে ২০০৮

Thursday, March 27, 2008

বার্ড ফ্লু থেকে সতর্কতা

খামারকর্মীদের সতর্কতা:
এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে এ ভাইরাসে প্রায় ২০০ মানুষ মারা গেছে। এদের সবাই খামারকর্মী। সে কারণে ভোক্তা নয়, খামারকর্মী ও আক্রান্ত খামারের মুরগি নিধনে নিয়োজিতদের বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। দরকারি বেশভুষা ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পায়ে প্লাস্টি গাম বুট ও অ্যাপ্রোন পরতে হবে। শারীরিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। যারা জীবন্ত মুরগির বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত তাদেরও এসব পেশাক পরে থাকতে হবে। খামারে জীব-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। শেডে প্রবেশের সময় ফুটপথে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি রাখতে হবে। এতে পা ধুয়ে খামারে প্রবেশ নিশ্চিত করা দরকার। খামার ও জীবন্ত মুরগির দোকানের চারপাশে নিয়মিত ফরমালিন বা শক্তিশালী জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। কোনোভাবেই অতিথি পাখিদের সংস্পর্শে আসা যাবে না।

প্রতিষেধক ওষুধ:
চীন ও ফ্রান্সসহ অনেক দেশই মুরগির এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য লাইভ ভ্যাকসিন আবিষ্ককার করেছে। চীনের স্টেট মিডিয়া জানায়, অরবিন রিসার্স ইনস্টিটিউট বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে চার বছর গবেষণা করে লভি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে। এই ভ্যাকসিন বার্ড ফ্লু ভাইরাসসহ রানিক্ষেত রোগের বিরুদ্ধে কাজ করবে।
খামারের মুরগিদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। বার্ড ফ্লু রোগে আক্রান্ত হাঁস-মুরগি ও কবুতরসহ কোনো পাখিরই কোনো চিকিৎসা নেই। উন্নত বিশ্বে এ রোগের টিকা দেওয়ার প্রথা চালু থাকলেও আমাদের দেশে এখনো এ টিকা আমদানি করার অনুমতি নেই। দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

রান্না মাংস-ডিমে ভয় নেই:
এই ভাইরাসে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশিষ্ট পশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনজুর আজিজ বলেন, "আমরা যে তাপে মুরগির মাংস রান্না করি সেই তাপে কোনো জীবাণু বাঁচে না।
তা ছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত মুরগি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায়। বাজার থেকে তাজা, সবল জীবন্ত মুরগি কিনলে তা পুরোপুরি নিরাপদ। আক্রান্ত মুরগি বাজার পর্যন্ত আনতে আনতে তাজা থাকবে না। তবে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে অল্প সেদ্ধ মাংস বা ডিম না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া রান্নার আগে মাংস কাটার পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।"
খামারকর্মীদের শেডে কাজ করার সময় মাস্ক পরে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে। থুতু ফেলা যাবে না। কাজ শেষে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ও পা ভালো করে ধুয়ে ফেলা দরকার।

জীব-নিরাপত্তা জোরদারের বিকল্প নেই:
বায়ো সিকিউরিটি বা জীব-নিরাপত্তা একটি সাধারণ জ্ঞান। এক কথায় জীব নিরাপত্তা হলো খামারের মুরগি ও খামারকর্মীদের রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা। জীব-নিরাপত্তা নিতে অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না। এটি মূলত আচরণবিধি। এর ফলে রোগজীবাণু থেকে খামার রক্ষা পাবে এবং হাঁস-মুরগি রোগজীবাণু থেকে মুক্ত থাকবে।
খামারের হাঁস-মুরগি সব সময় ভালো জায়গায় রাখতে হবে। ভালো জায়গা হলো পরিষ্ককার পানি ও খাবারের ব্যবস্থা আছে এমন জায়গা; যেখানে নিয়মিত টিকা ও ওষুধপথ্যের ব্যবস্থাও আছে।হাঁস-মুরগি সব সময় সংরক্ষিত ঘেরা জায়গায় রাখতে হবে।
খামারে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দর্শনার্থীদের জুতা-স্যান্ডেল, ছাগল, ভেড়া, বন্য পাখি রিকশাভ্যান ও মোটর গাড়ির মাধ্যমে আক্রান্ত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার খামারে রোগ ছড়াতে পারে। সে জন্য দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখতে হবে।

পাশের খামারে যদি রোগ দেখা দেয়:
পাশের খামারে এই রোগ দেখা দিলে বুঝতে হবে, আপনার খামার এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। মনে রাখতে হবে, আপনার খামারটিও আক্রান্ত হতে পারে। তবে এ সময় অধৈর্য না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কতগুলো মৌলিক নীতি অবলম্বন করতে হবে।
খামারের হাঁস-মুরগির জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নতুর হাঁস-মুরগি কিনবেন না। বহিরাগতদের কোনোভাবেই খামার শেডের কাছে আসতে দেওয়া যাবে না। খামারের আশপাশ, শেড, শেডের প্রত্যেকটি যন্ত্রপাতি এমনকি সাইকেল, মোটরসাইকেল নিয়মিত পরিষ্ককার রাখতে হবে। খামারের বর্জ্য ও বিষ্ঠা সুরক্ষিত জায়গায় রাখতে হবে।

যদি মড়ক লাগে:
খামারে মুরগির মৃত্যু বা মড়ক অনেক সময়ই হয় ও হতে পারে। যে কারণেই মড়ক লাগুক না কেন, দ্রুত নিকটস্থ পশুসম্পদ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। মনে রাখবেন, চোখে দেখে কোনোভাবেই বোঝা যাবে না মৃত্যুর কারণ বার্ড ফ্লু ভাইরাস কি না। রোগের কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই ল্যাবরেটরি টেস্ট করাতে হবে। পাশুসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসক নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে রক্তের নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আপনাকে নিশ্চিত করবেন রোগের কারণ কী। যদি বার্ড ফ্লু ভাইরাস পাওয়া যায়, তাহলে নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে খামারের মুরগি নিধন ও ডিম নষ্ট করতে হবে এবং খামারের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

করণীয়:

*
মুরগির মাংস ও ডিম ভালোভাবে রান্না ও সেদ্ধ করে খেতে হবে।
*
খাওয়ার আগে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
*
ডিম ফ্রিজে রাখার আগে হালকা গরম পানি বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে রাখতে হবে।
*
বাড়ির হাঁস-মুরগি খাঁচায় ভরে রাখুন বা কোনো নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
*
খামারে কাজ করার সময় মাস্ক, গ্লাভস বা দস্তানা এবং অ্যাপ্রোন পরে কাজ করতে হবে।
*
খামারের ফুটপথে পা ধুয়ে প্রবেশ করুন।
*
হঠাৎ জাবর কাশি, গলার স্বর ভেঙে গেলে, চোখে কোনো সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অনুচিত:

*
অতিথি পাখিদের শিকার ও খাওয়া যাবে না।
*
মুরগি কাটার ছুরি, বঁটি ও মাংস রাখার পাত্র গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে রাখতে হবে।
*
জীবন্ত মুরগি ছাড়া কোনো রোগগ্রস্ত মুরগি, হাঁস, কবুতর কেনা বা খাওয়া যাবে না।
*
খামার শেড থেকে শিশুদের দুরে রাখতে হবে।
*
খামারের অসুস্থ মুরগি খাওয়া যাবে না।
*
গুজব বিশ্বাস করা যাবে না।

তথ্য নেয়া হয়েছে নিসর্গ ব্লগ থেকে। লিঙ্ক নং - ১ এবং লিঙ্ক নং - ২

Sunday, March 9, 2008

বার্ড ফ্লু কি?

বার্ড ফ্লু ভাইরাস কী?
বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন বা পাখি সম্পর্কিত রোগ একই। আর্থোমিক্সিরিডি গোত্রের ভাইরাস আক্রান্ত পাখিদের রোগ। মুরগি বা যেকোনো পাখি এই ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়। এই ভাইরাসের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় ১৮৭৮ সালে। ১৯৫৫ সালে ইতালিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তকে ফাইল প্লেগ নামে পরিচিত করা হয়। বর্তমান নাম বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। এই ভাইরাসের অনেক সাব-টাইপ বা স্ট্রেন রয়েছে। এসব স্ট্রেনের মধ্যে এইচ-৫, এন-১ সবচেয়ে মারাত্মক। দ্রুত এক পাখি থেকে ঝাঁকের অন্য পাখিদের আক্রমণ করে। পাখির লালা ও মলের মাধ্যমে দ্রুত বিস্তার করে। আক্রান্ত পাখি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়।

কীভাবে ছড়ায়?
বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পাখির অন্ত্রে বাস করে। বিষ্ঠা বা মলের সঙ্গে বের হয়ে আসে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাস বা আক্রান্ত পাখির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে শ্লেষ্ক্না ও কফ আকারে বের হয়ে এসে সুস্থ পাখিদের আক্রমণ করে। অতিথি পাখিরা সাধারণত এই ভাইরাসের অন্যতম বাহক। আক্রান্ত পাখির বিচরণে, খামার যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও খামারের কর্মীদের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

চেনার উপায়:
ভাইরাস আক্রমণের তিন থেকে ১০ দিন পর রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়। আক্রান্ত পাখির পালক উসকোখুসকো হয়ে যায়। ক্ষুধামন্দা ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মাথার ঝুঁটির গোড়ায় রক্তক্ষরণ হয়। পায়ের পাতা ও হাফ-জয়েন্টের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে রক্ত জমে যায় ও রক্তক্ষরণ হয়। হঠাৎ করে মুরগির ডিম উৎপাদন হার কমে যায়ে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মৃত্যুহার বেড়ে যায়।

*
খামারে হঠাৎ করেই এ রোগ ছড়াতে পারে। একসঙ্গে অনেক মুরগি মারা যাবে। অসুস্থতার লক্ষণ ছাড়াই মারা যেতে পারে। অবসাদ, ঝিমুনি, ক্ষুধামন্দা, উসকোখুসকো পালক, জ্বর। এসব লক্ষণের পর মারা যেতে পারে।
*
দুর্বলতা ও চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। আক্রান্তরা চুপচাপ বসে থাকে। মাথা মাটিতে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
*
অল্প বয়সের মুরগিদের পক্ষাঘাত দেখা দেবে।
*
ডিম পাড়া কমে যাবে; নরম খোসাযুক্ত ডিম পাড়ে।
*
গলা ও মাথার ঝুঁটি ফুলে যায়। গাঢ় লাল বা নীল রং ধারণ করে এবং কখনো কখনো ক্ষুদ্র বিন্দুর রক্তক্ষরণ দেখা দেয়।
*
আক্রান্তরা শ্বাসকষ্টে ভোগে।
*
শরীরের পালকবিহীন অংশ যেমন পায়ে রানের নিচের অংশে রক্তক্ষরণ হবে।
*
খামারে ১০০ ভাগ পর্যন্ত মোরগ-মুরগি মারা যায়।
*
হাঁস ও রাজহাঁসদেরও একই লক্ষণ দেখা দেবে।
*
অনেক ক্ষেত্রে হাঁস রোগের লক্ষণ ছাড়াই জীবাণু ছড়াতে পারে।


শরীরের ভেতরে পরিবর্তন:

*
শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং হূৎপিন্ডের ভেতর ও বাইরে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো রক্তক্ষরণ দেখা যায়।
*
চামড়ার নিচে বিশেষ করে ঘাড়ে ও পায়ের গিরায় প্রচুর পানি জমে।
*
মৃতদেহ পানিশুন্য হয়ে যেতে পারে।
*
প্লীহা, বৃਆ, কলিজা এবং ফুসফুস ইত্যাদিতে ধুসর রঙের মৃত কোষ থাকতে পারে।
*
বায়ুথলি অস্বচ্ছ হতে পারে এবং ধুসর বা হলুদাভ তরল পদার্থ পাওয়া যেতে পারে।
*
প্লীহা বড় হতে পারে এবং রক্তক্ষরণের ফলে গাঢ় রং ধারণ করতে পারে।

একই লক্ষণের অন্য রোগ:
এসব রোগ-লক্ষণ বার্ড ফ্লু থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এসব রোগেও খামারের মুরগি দ্রুত মারা যায়।

*
তীব্র রানিক্ষেত রোগ।
*
ডাকপ্লেগ রোগ। মুরগির ডাকপ্লেগ হয় না।
*
মুরগির সংক্রামক করাইজা।
*
তীব্র বিষক্রিয়া।

কেন মারাত্মক:
এটি মারাত্মক রোগ। খামারের মুরগি দ্রুত মারা যেতে পারে। খামার থেকে খামার ও এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগগ্রস্ত মুরগি থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। দুইভাবে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। অতিসংক্রামক হাইপ্যাথজেনিক এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ঐচঅও, আবার মৃদু সংক্রামক বা লোপ্যাথজেনিক খচঅও অবস্থায়ও ছড়াতে পারে।

http://bdbird.blogspot.com